বৃহঃস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আজ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পাকা ঘরে থাকতে পারব

  •  
  •  
  •  
  •  

দুলাল হোসেন মন্ডল স্টাফ রিপোর্টার: সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা মহিলা বেগম তার বাড়ী উপজেলার পাইকোশা গ্রামে। স্বামী মারা গেছেন অনেক আগে। চার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। জমিজমা বাড়ী ঘর কিছুই নেই। আগে থেকেই যাদের বাড়ীতে কাজ করেছেন তার বাড়ীতেই থেকেছেন। মেয়েদের বিয়ে হওয়ায় স্বামী হারা স্বয়সম্বলহীন একাকিত্ব জীবন বৃদ্ধা মহিলা বেগমের।

প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পেয়ে তিনি খুব খুশি। বৃদ্ধা মহিলা বেগম জানান, আমার দুই কূলে কেউ নাই। এ্যাহেনে ওহেনে কাগজ টানাইয়া গর বানাইয়া থাকি। কোন দিন স্বপ্নেও দেহি নাই পাহা গরে থাকমু। প্রধানমন্ত্রী আমাগোরে এই বুরা বয়সে দালানঘরে থাইকপার দিবো। মাতা গোজার জাগা পামু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আল্লাহ ম্যালা বছর বাঁচাইয়া রাখুক।

উপজেলার বানিয়াগাতী গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ আসাব আলী শেখ আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, আমার পাঁচ ছওয়ালের মধ্যে এহন চ্যার জন আছে। ছওয়ালরা থাইক্যাও নাই, ছওয়ালরা বিয়া কইয়া আলাদা হইয়া গেছে। আমি আর আমার বউ বুরা হইয়া গেছি, মাইনসের বাড়িত কাম করি তাগেরই বারিত খাই আর থাকি। আমি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পাইয়া খুব খুশি। রায়দৌলতপুর উত্তরপাড়া গ্রামের শাহ আলম জানান, আমার তিন ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছি। ছেলেদের মধ্যে দুই ছেলে বিয়ে করে বাড়ীঘর না থাকায় তারা তাদের শ্বশুর বাড়ীতেই থাকে। আমি বর্তমানে রেল লাইনের পাশে রেল লাইনের জায়গায় টিনের একটি ছাপড়া ঘর তুলে কোন মতে দিনাতিপাত করেছি। এখন প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘরে থাকবো। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলায় যুক্ত হয়ে গৃহহীন-ভূমিহীনদের জমি ও গৃহ প্রদানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার ৩০ জন গৃহহীন-ভূমিহীনদের মধ্যে জমির দলিল ও গৃহের চাবি হস্তান্তর করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা সুলতানা জানান, উপজেলার ৬০টি ঘরের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩০টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ খুব দ্রæততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। প্রতি পরিবারকে দুই শতক খাস জমির সাথে দেয়া হয়েছে একটি বসত ঘর। প্রতিটি ঘরে থাকছে দুইটি কক্ষ, একটি সংযুক্ত স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা, একটি রান্না ঘর ও বারান্দা। প্রতিটি ঘরের ব্যয় হয়েছে ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »

x