বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১

‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’ গানের আসল গীতিকার কে?

  •  
  •  
  •  
  •  

প্রতিবেদক: সজল ঘোষ

প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী অ্যান্ড্রু কিশোরের গাওয়া ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’ গানটির গীতিকার হিসেবে পরিচিত মনিরুজ্জামান মনির। তবে এই গানের মূল গীতিকার মরহুম সৈয়দ আসাদউদ্দৌলা শিরাজী বলে রায় দিয়েছে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস।

সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস এই তথ্য জানায়। একইসঙ্গে মরহুম সৈয়দ আসাদউদ্দৌলা শিরাজীর উত্তরাধিকারের পক্ষে গানটির কপিরাইট সনদ ইস্যু করার জন্যও বলা হয়েছে।

কপিরাইট অফিস সূত্র জানা যায়, মরহুম সৈয়দ আসাদউদ্দৌলা শিরাজীকে ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’ গানটির গীতিকার দাবি করে তার উত্তরাধিকার (মেয়ে) সৈয়দা গুলরুখ মহল সিরাজী কপিরাইট রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন দাখিল করেন। এই দাবির পক্ষে তিনি ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত একটি গ্রন্থ, যেখানে এই গানটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং গানটি মাজারে পরিবেশনের একটি ভিডিও ফুটেজ দাখিল করেন।

অন্যদিকে ‘প্রাণসজনী’ নামক চলচ্চিত্রে প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী এ্যান্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে পরিবেশিত হয় গানটি। সে সময় গানটির সুরকার ও সংগীত পরিচালক ছিলেন আলম খান। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে এই গানের গীতিকার হিসেবে মনিরুজ্জামান মনিরের নাম লেখা হয়।

কপিরাইট অফিস জানায়, এমন প্রেক্ষাপটে গানটির প্রকৃত গীতিকার সম্পর্কে মতামত চেয়ে মনিরুজ্জামান মনিরের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠির জবাবে তিনি জানান- ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’ শীর্ষক গানটির গীতিকার হিসেবে তিনি দাবি করেন না’। উল্লেখিত তথ্যপ্রমাণ ও বক্তব্য বিশ্লেষণ করে এটা প্রমাণ হয় যে, গানটির গীতিকার মরহুম সৈয়দ আসাদউদ্দৌলা শিরাজী।

এছাড়া গানটি ‘প্রাণ সজনী’ চলচ্চিত্রে গীতিকারের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছে কপিরাইট অফিস, যা কপিরাইট আইন অনুযায়ী বৈধ নয়। তাই প্রযোজক কর্তৃক অনুমতি নিয়ে বা ক্রয় করে এই গান অন্যত্র বিক্রি বা রিমেক করার কোন অধিকার নেই। এমন ক্ষেত্রে গানটি বিক্রি বা রিমেক করতে গীতিকারের অবর্তমানে তার উত্তরাধীকারের অনুমতি প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার অফ কপিরাইটস জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, গানটির গীতিকার নিয়ে এখন আর কোন দ্বন্দ্ব নেই। তবে এটা বিস্ময়ের যে, এই গানের জন্য একজন কণ্ঠশিল্পী জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু তার সঠিক গীতিকারকে খুঁজে পাওয়া গেল এখন। তবে আমরা এটা করতে পেরে আনন্দিত।

তিনি জানান, মনিরুজ্জামান মনিরের কাছে এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানিয়েছেন- চলচ্চিত্রে মোট ৬টি গানের মধ্যে ৫টি তার লেখা। কিন্তু বাকি একটি গানের গীতিকার খুঁজে পাওয়া না যাওয়ায় চলচ্চিত্রে শুধুমাত্র তার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু তিনি এই গানের গীতিকার দাবি করেন না। এছাড়া সুরকার দাবি করেছেন তিনি নিজেই গানটির সুর করেছেন।

জাফর রাজা বলেন, এই গানটি এখন থেকে ক্রয় বা রিমেক করতে গেলে প্রকৃত গীতিকারের অবর্তমানে তার উত্তরাধীকারের অনুমতি প্রয়োজন হবে। এছাড়া ‘প্রাণ সজনী’ চলচ্চিত্রের প্রযোজকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কিনা, তা নির্ভর করবে গীতিকারের উত্তরাধীকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »

x