বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১

“স্মৃতিসুধা”

  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্ট:

নিভৃতচারী পরমাণু বিজ্ঞানী, বঙ্গবন্ধুর জামাতা ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ৮০তম জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা।

” নিভৃতচারী এই পরমাণু বিজ্ঞানী ও গবেষকের জন্মদিনে স্মরণকরেন শ্রদ্ধাবনত চিত্তে সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের তুখোর ও মেধাবী সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ- শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ আল আমিন এবং সেই সাথে, নিভৃতচারী এই পরমাণু বিজ্ঞানীর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন সাবেক এই ছাত্র নেতা”।

নিভৃতচারী পরমাণু বিজ্ঞানী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জামাতা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র স্বামী প্রয়াত, ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ৮০তম জন্মদিন মঙ্গলবার। তিনি ১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার লালদীঘির ফতেহপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী এ বিজ্ঞানী ২০০৯ সালের ৯ মে ইন্তেকাল করেন।

গ্রামময় রঙের খেলা। উজ্জ্বল নীল আকাশ, সাদা-কালো মেঘ, পাকা ধানের ক্ষেত সোনালি আভায় উদ্ভাসিত। যেদিকে চোখ যায়- দিগন্তছোঁয়া সবুজের শোভা।

পাতার ফাঁকে, পুকুরের জলে রোদের লুকোচুরি। এমন আলো-ছায়া ঘেরা প্রকৃতির অমিত প্রাণশক্তি নিয়ে রংপুর থেকে ঢাকায় এসেছিলেন এক তরুণ। মেধাবী, সাহসী, উদ্যমী, কর্মঠ কিন্তু একটু অন্তর্মুখী। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের সতীর্থরা, ছাত্র রাজনীতির বন্ধুরা সবাই দিনে দিনে টের পেয়ে যায়- অন্তর্মুখী এই ছেলেটির মাঝে কী যেন একটা আছে।

আর ছেলেবেলায় ছোট্ট সুধার মুখে ভাত তুলে দিতে দিতে মা কতবার ভেবেছেন- এই যে সুযোগ পেলেই একা একা চুপটি করে বসে থাকে ছেলেটা, কেন যেন সে অন্যসব শিশুর মত নয় ! হ্যাঁ, মায়ের সেই সুধা, সুধা মিয়া-ই দেশের কৃতী পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া।

সমাজের চিরচেনা মানুষের গতানুগতিক মানসিকতার সঙ্গে যাঁর ছিল বরাবরই একটু তফাত। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হয়েও, রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুর সবচেয়ে কাছাকাছি থেকেও কোনদিন তিনি ক্ষমতাচর্চায় আগ্রহী হননি।

ক্ষমতার উত্তাপের বিপরীতে তিনি ছিলেন স্থির, অচঞ্চল, নিভৃতচারী ও নিষ্কলুষ একজন। নিজের মেধা, শ্রম ও যোগ্যতায় তিনি ক্রমে ক্রমে হয়ে উঠেছেন সত্যিকার আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষের প্রতিচ্ছবি।

বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া তত্ত্বীয় পরমাণু বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেছেন দীর্ঘ সময়। তাঁর লেখা বই এবং অভিসন্দর্ভ পড়ানো হচ্ছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। অধ্যয়ন ও গবেষণায় নিবিষ্ট এই পরমাণু বিজ্ঞানী বিশ্বসভায় বাংলাদেশকে করেছেন সম্মানিত।

রংপুরের নিভৃতপল্লীর সেই ছোট্ট সুধা মিয়া আজ নিজগুণে দেশের গণ্ডি ছাপিয়ে বিশ্বজুড়ে চিরভাস্বর। বিজ্ঞান আর মানবিকতার চর্চা সুধা মিয়াকে নিয়ে গেছে এক অনন্য অবস্থানে। তাঁর অবদানের কারণেই পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়াকে এদেশের মানুষ স্মরণ করবে চিরদিন।

সময়টা ১৯৬৭ সাল। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ। ছয় দফা আন্দোলনের কারণে গোটা দেশে তখন বিরাজ করছে ভীতিকর পরিস্থিতি।
এ রকম পরিস্থিতিতে ১৭ নভেম্বর পবিত্র শবেবরাতের রাতে বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের পছন্দের পাত্র, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মেধাবী পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শেখ হাসিনা।

বিরূপ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বাবা শেখ মুজিব জেলে থাকায় তাঁদের বিয়ের আয়োজনটি ছিল খুব সাদামাটা। বিয়ের পরদিন জেলগেটে ওয়াজেদ-হাসিনা নবদম্পতিকে দোয়া করেন বঙ্গবন্ধু। নতুন জামাইকে সে সময় তিনি একটি রোলেক্স ঘড়ি উপহার দেন। এই উপহার আজীবন সযতেœ রেখেছিলেন ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া।

এই সুখ-স্মৃতি নিয়ে ওয়াজেদ মিয়া নিজেই বলে গেছেন, ‘নিরানন্দ ও আলোকসজ্জাবিহীন পরিবেশে বিয়ের পরদিন বঙ্গবন্ধুর দেওয়া রোলেক্স ঘড়ি এবং স্ত্রীর জন্য নিজের কেনা বিয়ের শাড়িটি এখনো যতেœ রেখে দিয়েছি।’

নিভৃতচারী এই বিজ্ঞান গবেষকের জন্মদিনে “দৈনিক সিরাজগঞ্জের” পক্ষ থেকে তাঁকে স্মরণকরি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »

x