কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস, ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ


দৈনিক সিরাজগঞ্জ ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১২, ২০২৩, ৭:৩৮ অপরাহ্ন /
কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস, ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ

সুইডেনে কোরআন পোড়ানোর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও গোঁড়ামির ওপর আনা একটি প্রস্তাব জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে (ইউএনএইচআরসি) পাস হয়েছে। সুইডিশ এক নাগরিকের কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের তীব্র প্রতিবাদের মাঝে বুধবার ইউএনএইচআরসির অধিবেশনে ওই প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে প্রস্তাবটি পাস হয়েছে। তবে এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তারা বলেছে, ইউএনএইচআরসিতে আনা এই প্রস্তাব মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি তাদের যে অবস্থান আছে, তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

গত মাসে ঈদুল আজহার দিন স্টকহোমের প্রধান মসজিদের বাইরে ইরাকি বংশোদ্ভূত এক অভিবাসীর কোরআন পোড়ানোর ঘটনার জেরে মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) কোরআন অবমাননার নিন্দা জানায়। পরে পাকিস্তানের আহ্বানে মঙ্গলবার জাতিসংঘের শীর্ষ এই মানবাধিকার সংস্থা জরুরি বৈঠকে বসে।

মঙ্গলবার জেনেভা-ভিত্তিক এই পরিষদের বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেন, ধর্মীয় বিদ্বেষ, বৈষম্য এবং সহিংসতা উস্কে দেওয়ার চেষ্টায় এই ধরনের ঘটনা কেন ঘটছে, সেটি আমাদের স্পষ্টভাবে দেখতে হবে। সরকারের সম্মতিতে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে ইরান, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ভুট্টোর মন্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বক্তৃতা দেন।

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি বলেন, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার অপব্যবহার বন্ধ করুন। নীরবতার মানে সম্মতি দেওয়া।’

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক ইউএনএইচআরসিকে বলেছেন, মুসলমানদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্ম বা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ‘আপত্তিকর, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং ভুল।’

সুইডিশ সরকার কোরআন পোড়ানোকে ‘ইসলামোফোবিক’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে। সুইডেনের সরকার বলেছে, দেশে জনগণের সমাবেশ, মতপ্রকাশ এবং বিক্ষোভের স্বাধীনতার অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত আছে।

ইউএনএইচআরসির প্রস্তাব কোনও দেশ মানতে আইনত বাধ্য নয়। তবে সংস্থাটির আনা প্রস্তাবকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হিসাবে দেখা হয়।

• প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে যেসব
আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, বলিভিয়া, ক্যামেরুন, চীন, কিউবা, ইরিত্রিয়া, গ্যাবন, গাম্বিয়া, ভারত, আইভরি কোস্ট, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, মালাবি, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মরক্কো, পাকিস্তান, কাতার, সেনেগাল, সোমালিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুদান, ইউক্রেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম।

• প্রস্তাবের বিপক্ষে যারা ভোট দিয়েছে
বেলজিয়াম, কোস্টারিকা, চেক প্রজাতন্ত্র, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মন্টিনিগ্রো, রোমানিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র।

• ভোটদানে বিরত ছিল যারা
বেনিন, চিলি, জর্জিয়া, হন্ডুরাস, মেক্সিকো, নেপাল ও প্যারাগুয়ে।