আশ্বিনের ঝুম বৃষ্টিতে অপ্রস্তুত জনজীবন


দৈনিক সিরাজগঞ্জ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৩, ৮:০৩ অপরাহ্ন /
আশ্বিনের ঝুম বৃষ্টিতে অপ্রস্তুত জনজীবন

রংপুরে অসময়ের ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল। আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার বেলা ১২টা থেকে রোববার বেলা ১২টা পর্যন্ত) রংপুর বিভাগে ১ হাজার ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে, ৪১৫ দশমিক ৪ মিলিমিটার। আর শুধু রংপুরে ১৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে আশ্বিনেই ঝুম বৃষ্টিতে রংপুর অঞ্চলের নদ-নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। আবার কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। টানা বৃষ্টিতে রংপুর নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনুন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষজন। সড়কে যানবাহন চলাচল কিছুটা কমেছে। অবিরাম বৃষ্টির কারণে অনেক মার্কেটে খোলা হয়নি দোকানপাট। এদিকে কাজের আকালে বিপাকে রয়েছেন দিনমজুর ও শ্রমিকরা। নতুন ধান রোপণ করা কৃষকদেরও কপালে পড়েছে চিন্তায় ভাঁজ।

রংপুর নগরীর পানি নিষ্কাশনের প্রবাহপ্রাণ শ্যামাসুন্দরী ও কেডি খাল। এই দুই খাল গেল কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে এখন অনেকটাই টইটম্বুর। অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতায় অপ্রস্তুত এক বিড়ম্বনায় পড়েছে এই জনপদের মানুষ। নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের মতো শহর ডুবে যাবার আশঙ্কা চেপে বসেছে অনেকের মনে। তবে আষাঢ়-শ্রাবণকে হার মানানো অসময়ের এই অবিরাম বৃষ্টিপাতে নদীপাড়েও আবার বন্যার শঙ্কা জেগেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুর নগরীর লালবাগ, খামার মোড়, নেসকো গেট, নূরপূর, কামাল কাছনা, মাহিগঞ্জ, বোতলা, নিউ জুম্মাপাড়া, পূর্ব জুম্মাপাড়া, তাজহাট, বাবুপাড়া, মহাদেবপুর, কামারপাড়া, শালবন, মিস্ত্রিপাড়া, দর্শনা, আশরতপুর, ধাপ এলাকা, মুন্সিপাড়া, হনুমানতলা, মুলাটোল, মেডিকেল পাকার মাথা ও জলকরসহ বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

রংপুর নগরীর কলেজ রোড নেসকো ওয়াপদা মোড় এলাকার কামরুল হাসান বলেন, পাড়ার মোড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। মানুষজন ঠিকমতো চলাচল করতে পারছে না। ড্রেনের মুখগুলো ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হওয়াতে এ অবস্থা দেখা দিয়েছে।

চারতলা মোড় মাস্টারপাড়া এলাকার মোখলেছুর রহমান জানান, রাত থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ।

রংপুর প্রেসক্লাব এলাকায় কথা হয় পত্রিকা বিক্রেতা মনজু মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, বৃষ্টির কারণে পত্রিকা বিলি করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় ও ঢাকার পত্রিকাগুলো হাতে থাকলেও পাঠকের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারিনি। প্রেসক্লাব বিপণী বিতান মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।

সংবাদকর্মী মনিরুজ্জামান ও রেজাউল করিম জানান, টানা বৃষ্টি হলে তাদের ভয় লাগে। ২০২০ সালে এরকম অতি ভারী বর্ষণে পুরো রংপুর নগর পানিতে ডুবেছিল। সেবার রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হয়ে যা ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। বিরতিহীনভাবে পরের দিন সকাল পর্যন্ত গড়ায়, যা স্মরণকালেও ঘটেনি। এই সময়ে বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৪৭ দশমিক ৩ মিলিমিটার। বিগত এক শতাব্দীতে এমন বৃষ্টির রেকর্ড নেই।