কালের বিবর্তণে হারিয়ে যাচ্ছে আড়াইহাজারের বাঁশ, বেত ও মোতরা শিল্প


দৈনিক সিরাজগঞ্জ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩, ৫:০৮ অপরাহ্ন / ০ Views
কালের বিবর্তণে হারিয়ে যাচ্ছে আড়াইহাজারের বাঁশ, বেত ও মোতরা শিল্প

আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে কালের বিবর্তণে বাঁশ, বেত ও মোতরা দিয়ে তৈরী আসবাবপত্রের ব্যবহার তথা এ শিল্পটিই হারিয়ে যেতে বসেছে। গুটি কয়েক পরিবার পৈত্রিক পেশা হিসেবে এ কাজটিকে ধরে রাখার চেষ্টা করলেও এ সমস্ত দ্রব্যাদীর ব্যবহার কমে যাওয়ার ফলে তাদের তৈরীকৃত দ্রব্য গুলো এখন আর মানুষ টানছে না। তাই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা এবং বেছে নিচ্ছেন অন্য পেশা।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা কুটির শিল্পের জন্য বিশেষ ভাবে পরিচিত ছিল। এর মধ্যে আড়াইহাজারের প্রাণ কেন্দ্রে পাইট্টালপাড়া নামে একটি পাড়া ছিল। যেখানে মোতরা ও বাঁশ দিয়ে তৈরী হতো হাজার হাজার পাটি, নকশি করা পাটি, বাঁশের চাটাই ও অন্যান্য নিত্য ব্যবহার্য্য দ্রব্যাদী। ৮০ এর দশকে এ পাড়াটি থেকে পাড়ার অধিবাসিদেরকে অন্যান্য স্থানে পূনর্বাসিত করে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে আড়াইহাজার উপজেলা কোর্ট ভবন। পরে উপজেলা পর্যায়ে কোর্টের কার্যক্রম জেলা পর্যায়ে স্থানান্তর করার পর এটি বর্তমানে উপজেলা ভুমি অফিস ও আড়াইহাজার সাবরেজিষ্ট্রি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর আশে পাশে নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন সরকারী অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের বাস ভবন। আর এখান থেকে যাদেরকে পূনর্বাসিত করা হয়েছে তারা বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বসবাস করলেও বাঁশ, বেত ও মেতরা শিল্পের কাজ প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন এবং অন্যান্য বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হয়ে যাচ্ছেন।

তবে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও এলাকায় প্রায় শতাধীক হিন্দু পরিবার মোতরার পাটি তৈরীর কাজ করেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে শিবল চন্দ্র দে, কানু চন্দ্র দে, শান্তি চন্দ্র দে, মন্টু চন্দ্র দে এবং জীবন চন্দ্র দে জানান, পৈত্রিক পেশা কনো প্রকারে ধরে রাখলেও এখন রুচিশিল লোকেরা তাদের খাট পালঙ্কে ফোমের মেট, রঙ বেরঙের বেডশিট ইত্যাদী ব্যবহার করার কারণে পাটির চাহিদা অনেকটা কমে গেছে।

উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বাগাদী এলাকায় বাঁশ দিয়ে পাতি, কুলা, ঝুকনি, ধানের গোলা, পলো, খাঁচা এ সমস্ত নিত্য ব্যবহার্য্য দ্রব্যাদী তৈরী করা হতো। এখানে ছৈয়ল বাড়ী নামে একটি পাড়া বিশেষ পরিচিত ছিল। বর্তমানে ওই সব ছৈয়লেরা ও আর জীবিত নেই। তাদের বংশধরেরা এ কাজ প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন। এর পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণপাড়া নামে একটি পাড়া রয়েছে। এখানেও তৈরী হতো এ সমস্ত দ্রব্যাদী। এখন আর এ পাড়ায় ও কেউ এ সমস্ত জিনিসপত্র তৈরী করে বলে জানা যাচ্ছে না।

এ ছাড়া উপজেলার গোপালদী পৌরসভার রত্নগরদী গ্রামের প্রায় দুই শতাধীক হিন্দু পরিবার বাঁশ, বেত ও প্লাষ্টিকের রশি ও ফিতা দ্বারা বসার মোড়া তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে তারাও জানান, প্লাষ্টিকের চেয়ার ও মোড়ার প্রচলন হওয়ায় তাদেরও ব্যবসায় বর্তমানে ভাটা পড়ে যাচ্ছে। তাই তারা অন্য পেশায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করার চেষ্টা করছেন। তবে পৈত্রিক পেশা একেবারে ছেড়ে দিয়ে নয়। যে কোন ভাবে পরিবারের কেউ না কেউ পৈত্রিক এ পেশা কে আঁকড়ে ধরে রাখবেন বলেও তারা মতামত ব্যক্ত করেন।

আড়াইহাজার উপজেলা পর্যায়ে কুটির শিল্প বিষয়ক কোন অফিস না থাকায় এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।