ভোটে টিকে থাকতে হেভিওয়েট ৩ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ আজ


দৈনিক সিরাজগঞ্জ ডেস্ক প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২, ২০২৪, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন /
ভোটে টিকে থাকতে হেভিওয়েট ৩ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ আজ

ঢাকা: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারণে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া দেড় ডজন প্রার্থীর বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতে মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) শুনানি হবে। দ্বৈত নাগরিকত্ব, ঋণ খেলাপি ও এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনে গড়মিলসহ নানা অভিযোগে তাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়।

আজ (২ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে এসব বিষয়ের আবেদন শুনানির জন্য কার্য তালিকায় উঠেছে।

এর মধ্যে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে ফরিদপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যবসায়ী এ কে আজাদ।

শামীম হক নেদারল্যান্ডসের নাগরিক বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। এরপর শুনানি শেষে গত ১৫ ডিসেম্বর আপিল মঞ্জুর করে শামীম হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয় ইসি। তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন শামীম হক। গত ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তার রিট সরাসরি খারিজ করে দেন। পরে ১৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে শামীম হক আবেদন করেন। ওই দিন চেম্বার আদালত তার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেন।

এরপর চেম্বার আদালতের আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন এ কে আজাদ। যে আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২ জানুয়ারি দিন ধার্য রয়েছে। আবেদনটি কার্যতালিকার ২ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

বরিশাল-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী শাম্মী আহমেদ ও একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথ পরস্পরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন ইসিতে। শাম্মী আহমেদ অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হলেও তা গোপন করেছেন বলে অভিযোগ ছিল পঙ্কজ দেবনাথের।

এরপর ইসি বর্ণিত আপিলকারীর দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পর্কে তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঢাকার অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসের সহায়তায় সংগ্রহের জন্য নির্দেশনা দেয়।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকার অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসের সহায়তায় শাম্মী আহমেদের অস্ট্রেলিয়ার দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে জরুরি ভিত্তিতে ১৪ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানোর পর ১৫ ডিসেম্বর শাম্মী আহমেদের মনোনয়ন বাতিল করে দেন। আর একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথের প্রার্থিতা বহাল রাখেন। পরে শাম্মী আহমেদ হাইকোর্টে রিট করেন। যেটি গত ১৭ ডিসেম্বর খারিজ হয়ে যায়।

এরপর ১৮ ডিসেম্বর তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেন। শুনানি শেষে চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন। ফলে হাইকোর্টের আদেশ বহাল থেকে যায়। ফলে আর নির্বাচনের সুযোগ থাকছে না শাম্মী আহমেদের। এরপর তিনি ফের আবেদন করেন। তার আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকার ৪ নম্বরে রয়েছে।

বরিশাল-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ ফারুক। ১৫ ডিসেম্বর নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সিটির সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরে এ আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সাদিক আব্দুল্লাহ।

এরপর গত ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ। ফলে সাদিক আবদুল্লাহর মনোয়নপত্র বৈধতা পায়।

এর পরদিন হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছেন জাহিদ ফারুক। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন চেম্বার আদালত। এর ফলে সাদিক আব্দুল্লাহর নির্বাচন আটকে যায়।

পরে সাদিক আব্দুল্লাহর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন। যেটির শুনানির জন্য মঙ্গলবার ৩ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

এ ছাড়া যশোর-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এনামুল হক বাবুল, গাজীপুর-৪ আসনে তাজউদ্দীন আহমদের ভাগিনা আলম আহমেদসহ আরও ডজনখানেক প্রার্থীর আবেদনের বিষয়ে আগামীকাল ২ জানুয়ারি শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।